০১. চিকিৎসার মেয়াদ কতদিন ?


পুরুষ কেন্দ্রে চিকিৎসার মেয়াদকাল কমপক্ষে ৬ মাস এবং নারী কেন্দ্রে মেয়াদকাল ৩ মাস। বিভিন্ন গবেষনার ফলাফল ও অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা যায় যে, স্বল্পমেয়াদী চিকিৎসায় রিল্যাপ্স বা পুনঃ আসক্তির সংখ্যা অনেক বেশি ঘটে থাকে। বিধায় বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটের কথা বিবেচনা করে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন উপরোক্ত চিকিৎসার মেয়াদ নির্ধারণ করেছে।


০২. ভর্তির নিয়মাবলী কি কি ?


যে কোন ধর্ম, বর্ণ বা গোত্রের সকল ধরনের মাদক নির্ভরশীল নারী ও পুরুষ এই কেন্দ্রে ভর্তি হতে পারে। তবে ভর্তি ইচ্ছুক ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যদের সেন্টারের নিয়ম-কানুন মেনে চলা ও মেয়াদকাল ( পুরুষ কেন্দ্রে ৬ মাস এবং নারী কেন্দ্রে ৩ মাস) উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ব্যক্তিকে সেন্টারে রাখার সম্মতি থাকতে হবে। রোগী ভর্তির ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক অর্থাৎ ১৮ থেকে ৫০ বৎসর পর্যন্ত নেওয়া হয়।


০৩. কিভাবে চিকিৎসা করা হয় ?


ভর্তি হবার পরে প্রথম ১৪ দিন মাদক প্রত্যাহার জনিত উপসর্গ উপশমের জন্য চিকিৎসা দেয়া হয় যাকে নির্বিষকরন বা ডিটক্সিফিকেশন বলা হয়। রোগীর মাদক ব্যবহার সম্পর্কিত ইতিহাস জেনে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। এসময় রোগীকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে বিশ্রামের উপযোগী পরিবেশে রাখা হয়।এছাড়া জরুরী স্বাস্থ্য সেবার জন্য হাসপাতালে বা ক্লিনিকে পাঠানো হয়।

০৪. চিকিৎসার ব্যয় কত ?


পুরুষ কেন্দ্রের প্রতি মাসের চিকিৎসা ফি গাজীপুর সেন্টার এর জন্য ১৫০০০/- এবং যশোর সেন্টার এর জন্য ৯০০০/-  অর্থাৎ ৬ মাসের চিকিৎসা মেয়াদের জন্য গাজীপুর সেন্টারে ৯০,০০০/-, যশোর সেন্টারে ৫৪,০০০/- আর নারী কেন্দ্রের প্রতি মাসের চিকিৎসা ফি ২০০০০/- এবং ৩ মাসের চিকিৎসা মেয়াদের জন্য খরচ মোট ৬০,০০০/- ।পরবর্তীতে যদি ফলোআপ প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে ফলোআপ ফি গাজীপুর সেন্টার এর জন্য ১৫০০০/- এবং যশোর সেন্টার এর জন্য ৯০০০/- (পুরুষ কেন্দ্রের ক্ষেত্রে টাকা খরচ হবে)। অন্যান্য খরচ যেমন-কাপড়-চোপড়, সাবান, পেষ্ট, ঔষধ-পত্র অথবা বিশেষ কোন চিকিৎসার জন্য (যেমন-মানসিক সমস্যা), ক্লিনিক বা হাসপাতালের খরচ অভিভাবককে বহন করতে হবে। ভর্তির সময় সাধারণত ৩ মাসের ফি অগ্রিম নেয়া হয়।


০৫. এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন ?


আমাদের পুরুষ চিকিৎসা কেন্দ্রটি নিজস্ব পাঁচ বিঘা জায়গায় ৪ তলা দালান সহ অবস্থিত। মাদক নির্ভরশীলদের চিকিৎসার বিষয়টিকে বিবেচনায় রেখে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা রয়েছে। নিজেদের খেলার মাঠের চারদিকে ৭ ফুট উঁচু দেয়াল রয়েছে। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ও যেকোন জরুরী অবস্থার জন্য সার্বক্ষনিক পর্যাপ্ত লোকবল সেন্টারে রয়েছে। আর নারী চিকিৎসা কেন্দ্রটিও রয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায়।


০৬. মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার আগে বাড়িতে যাবার কোন সুযোগ আছে কিনা ?


পুরুষ চিকিৎসা কেন্দ্রের ক্ষেত্রে ৬ মাস এবং নারী চিকিৎসা কেন্দ্রের ক্ষেত্রে ৩ মাস পূর্ণ হবার পূর্বে রিলিজের কোন সুযোগ নেই। বিশেষ মানবিক বিষয় যেমন নিকট আত্মীয়র মৃত্যু বা চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল প্রেরন ইত্যাদি বিষয়ে ছাড় দেয়া হয়। যদি কেউ মেয়াদ পূর্ণ হবার আগেই চলে যেতে চায় তবে সেক্ষেত্রে পুরুষদের জন্য ৬ মাসের সম্পূর্ণ টাকা ৯০,০০০/-(নব্বই হাজার ) এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৩ মাসের সম্পূর্ণ টাকা (৬০,০০০) পরিশোধ করতে হবে।


০৭. মানসিক চিকিৎসার জন্য কি সেবা রয়েছে ?


সব মাদক নির্ভরশীল ব্যক্তিই মানসিক রুগী নয়৷ যাদের মাদক ব্যবহার করার ফলে মানসিক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে তারা এখানে ভর্তি হতে পারবে৷ এখানে একজন খন্ডকালীন মনো-চিকিৎসক রয়েছেন৷ তিনি প্রয়োজন অনুসারে মানসিক বা মনোচিকিৎসা দিয়ে থাকেন৷


০৮. পরিবারের সদস্যদের জন্য কোন কর্মসূচী রয়েছে ?


প্রায়ই লক্ষ্য করা যায় যে, অনেক মাদক নির্ভরশীল ব্যক্তির পরিবারে ভাঙন, পারিবারিক বিশৃঙ্খলা ও সম্পর্কের জটিলতা রয়েছে৷ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য পারিবারিক সম্প্রীতি ও পরিবারের ভূমিকা রয়েছে৷ চিকিৎসা পরবর্তী পরিচর্যা ও ফলোআপের জন্য পরিবারের ভূমিকা অগ্রগন্য৷ পরিবারের সদস্যদের মাদক নির্ভরশীলতার চিকিৎসা সম্পর্কিত ধারনা, রুগীদের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষন ও সহায়তার জন্য পারিবারিক সভার মাধ্যমে আলোচনা করা হয়৷ রোগী ভর্তির ১ মাস পর থেকে পরিবারের সদস্যরা প্রতি শুক্রবার সেন্টারে রোগীদের সাথে দেখা করতে পারবেন৷ রুগীর সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে খোজ-খবর নেয়া যাবে৷ ব্যক্তিগত, দম্পতি ও পারিবারিক কাউন্সেলিং করা যায় যা রুগীর সাথে পরিবারের সুন্দর ও স্বাভাবিক অবস্থা তৈরিতে সাহায্য করে৷




০৯. বিনোদনের জন্য কি ব্যবস্থা রয়েছে ?


মাদক নির্ভরশীলতা একটি মনোদৈহিক রোগ৷ শরীর ও মনের সুস্থতা ও বিকাশলাভের জন্য পর্যাপ্ত খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে৷ ফুটবল, ভবিবল, ব্যাডমিন্টনসহ দাবা ও ক্যারাম খেলতে পারে৷ নারীদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ইনডোর গেইমস| সংবাদ পত্র, বইপড়া, টিভি দেখার ব্যবস্থা রয়েছে এবং সপ্তাহে একদিন ভাল মানের চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়৷ বিভিন্ন সামাজিক , ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও আন্তজার্তিক দিবস উদযাপন ছাড়াও বার্ষিক ক্রীড়া ও পিকনিকের আয়োজন করা হয়৷


১০. পরবর্তী পরিচর্যা ও রিল্যান্সের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা রয়েছে ?



পূর্ণমেয়াদ চিকিৎসার পর ফলোআপের ব্যবস্থা রয়েছে৷ পরবর্তী পরিচর্যার জন্য গাজীপুর ও ঢাকায় নারকোটিকস্ এনোনিমাস (এনএ) মিটিং রয়েছে৷ ফলোআপ করার সময় সপ্তাহে একদিন রুগীরা বাড়ী যেতে পারে৷ সেন্টারের সাথে যোগাযোগ রাখা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য তাদের উৎসাহ দেয়া হয়৷ পুরুষ পুনর্বাসন কেন্দ্রে হোপ ক্লাব" নামের একটি ক্লাব আছে, চিকিৎসার পর এখানে রুগীরা যোগ দিয়ে সেল্প-হেল্প গ্রুপ গঠন করতে পারে৷



১১. রুগীদের জন্য আলাদা রুম বা কেবিন রয়েছে কি না ?


রুগীর জন্য পৃথক রুম বা কেবিন নেই৷


১২. কতবার খাবার পরিবেশন করা হয় ?


সাধারনভাবে সকালের নাস্তা, দুপুরেরর খাবার ও রাতের খাবার দেয়া হয়৷ এর সাথে সকালে ও বিকেলে চা-নাস্তা দেয়া হয়৷ রুগীদের পুষ্টিগত দিক লক্ষ্য রেখে উন্নতমানের খাবার দেয়া হয়৷


১৩. পরিবারের সদস্যরা কি রুগীর সাথে দেখা করতে পারে ?


ভর্তিও প্রথম একমাস পর থেকে পরিবারের সদস্যরা প্রতি শুক্রবার রুগীর সাথে দেখা করতে পারবেন৷


১৪. চিকিৎসাকালীন সময়ে রুগীকে কি বাইরে নেয়া যাবে ?


রুগীকে বাইরে নেয়ার কোন সুযোগ নেই৷ তবে জরুরী কোন বিষয়ে লিখিত অনুমতির মাধ্যমে শুধুমাত্র অভিভাবক নিতে পারবেন এবং নিদি©ষ্ট সময় পর পুনরায় সেন্টারে নিয়ে য়েতে হবে৷ রোগী সেন্টারের বাইরে নেয়ার পূর্বে সকল অর্থ পরিশোধ করতে হবে৷


১৫. পুনর্বাসনের জন্য কোন চাকুরির সুযোগ রয়েছে কি ?


চিকিৎসা পরবর্তী সময়ে রুগীর শারিরীক ও মানসিক, শিক্ষাগত যোগ্যতা, চাকুরী করার মানসিকতার কথা বি‡eচনা করে সুযোগ প্রদান করা হয়৷


১৬. বাইরে থেকে রুগীকে খাবার দেয়া যাবে কি না ?


বাইরে থেকে কোন খাবার দেয়া যাবে না৷ তবে কোন উৎসব বা বিশেষ আয়োজনে কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে সেন্টারের অবস্থানরত সবার জন্য খাবার দেয়া যাবে৷


১৭. কেউ অসুস্থ হলে তার জন্য কি আলাদা খাবার দেয়া হয় ?


কেউ অসুস্থ থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বিশেষ খাবার দেয়া হয়৷


১৮. রুগীর ফলোআপের সময় কতদিন ?


সাধারনত সেন্টারে ৩ মাস ফলোআপ করা হয়৷ কারো কারো জন্য এটা বেশীও হতে পারে৷


১৯. কি ধরনের চিকিৎসা দেয়া হয় ?


মাদক নির্ভরশীলতার চিকিৎসা একটি জটিল, দীর্ঘ মেয়াদী ও সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলা হয় মাদক নির্ভরশীলতা অনিরাময়যোগ্য রোগ৷ কিন্তু চিকিৎসার পরবর্তী পরামর্শ অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করলে মাদকমুক্ত থাকা সম্ভব।রুগীকে প্রথম ১৪ দিন ডিটক্সিফিকেশন করার পর পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় নেয়া হয়৷ এখানে থেরাপিউটিক কমিউনিটি, নারকোটিকস্ এনোনিমাসের ১২ ধাপ ও মনোসামাজিক শিক্ষা এবং কাউন্সেলিং ও গ্রুপ থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা চলে৷

২০. এইচ আইভি পরীক্ষা করা হয় কি না ?


সেন্টারে নিজস্ব ল্যাবে রোগীর সম্মতি সাপেক্ষে এইচ আইভি পরীক্ষা করা হয়৷ এক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়৷ সেন্টারে VCT ল্যাব রয়েছে৷


২১. ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাউকে ভর্তি করা হয় ?


অনেক রুগীর ভর্তির ইচ্ছা প্রাথমিকভাবে থাকে না৷ রুগীর অভিভাবক যদি রাজী থাকেন এবং ৬ মাসপুরুষদের ক্ষেত্রে এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৩ মাস সেন্টারে রাখার জন্য মানসিক প্রস্তুত থাকে তাহলে ভর্তি করা হয়৷ এক্ষেত্রে রুগীকে সেন্টার পর্যন্ত অভিভাবকের দায়িত্বে নিয়ে আসতে হবে কারন রোগীকে সেন্টার পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের নিজস্ব কোন ব্যবস্থা নেই৷

২২. সেন্টারে রোগীদেরকে সিগারেট দেয়া হয় ?


রোগীদেরকে সিগারেট দেয়া হয়না৷ সেন্টারটি সম্পূর্ন ধুমপানমুক্ত৷


২৩. চিকিৎসা কেন্দ্রটির অবস্থান ও ঠিকানা৷


কেন্দ্রটি রাজেন্দ্রপুর ন্যাশনাল পার্কের কাছাকাছি নিজস্ব ৫ বিঘা জমির উপর ৪ তলা দালানসহ মনোরম পরিবেশে অবস্থিত৷ এখানে রয়েছে খেলার মাঠ, বাগান ও পর্যাপ্ত খোলা জায়গা৷

নারী পুনর্বাসন কেন্দ্রঃ

১০/২ ইকবাল রোড, মোহম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭। মোবাইল নং:০১৭১৫৪০৭৮৪৩,০১৭৭২৯১৬১০২

পুরুষ পুনর্বাসন কেন্দ্রঃ

গাজীপুর সেন্টারঃ মিয়া বাড়ি সড়ক (ক্যমিলিয়া সাবান ফ্যক্টরীর সামনে), রাজেন্দ্রপুর, গাজীপুর৷ মোবাইল নং- ০১৭১৫৪০৭৮৪৩

যশোর সেন্টারঃ আহ্‌ছানিয়া মিশন মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পূনর্বাসন কেন্দ্র যশোর ভেকুটিয়া সদর ,যশোর | মোবাইল নং-০১৯৩৩৪৯৭১৯০,০১৭৮১৩৫৫৭৫৫