নেশা ছাড়ার উপায় সুস্থ ও সুখী থাকার পথ | Omega Point BD

আমাদের সমাজের এক ভয়ঙ্কর বাস্তবতা হলো মাদকাসক্তি। শুধু কিশোর-কিশোরী নয়, প্রত্যেক বয়সের মানুষই এই নেশার কবলে পড়তে পারে। অনেকেই মনে করেন মাদকাসক্তি শুধু নৈতিক দুর্বলতা, অথবা খারাপ সঙ্গের ফসল। কিন্তু আসলেই কি তাই? চলুন জেনে নেই নেশা করার কারণ এবং নেশা ছাড়ার উপায় কি কি?

চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, মাদকাসক্তি একটি ব্যাধি। ‘ক্রনিক রিলাক্সিং ব্রেইন ডিজিজ’ নামে পরিচিত এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির মস্তিষ্কের রসায়নিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। মাদকের প্রভাবে ডোপামিন নামক এক ধরণের সুখকর রাসায়নিক নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়, যা ক্রমশ মস্তিষ্ককে নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে মাদক ছাড়া সুখ অনুভব করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে কঠিন হলেও নেশা ছাড়া অসম্ভব নয়। আর সেই লক্ষ্যে আজকে কার্যকরী কিছু নেশা ছাড়ার উপায় শেয়ার করা হবে আপনার সাথে। যদি আপনি সেই নেশা ছাড়ার উপায় গুলো সঠিকভাবে অনুসরন করতে পারেন, তাহলে আপনিও অন্যান্য মানুষের মতো সুস্থ, সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবনযাপন অতিবাহিত করতে পারবেন।   

মাদকাসক্তির ভয়াল থাবা ও আজকের প্রজন্ম

এই রোগের শিকার বেশিরভাগই কিশোর-কিশোরী। তাদের ভুল সঙ্গের প্রভাবেই তারা মাদকের প্রতি আকৃষ্ট হয়। মনে রাখবেন, মাদকাসক্তি কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি করে না, বরং এই মাদকাসক্তি প্রতি বছর কেড়ে নেয় অসংখ্য মানুষের প্রাণ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) মাদকাসক্তিকে মানসিক রোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার মাধ্যমেই এই রোগের নিরাময় করা সম্ভব। কারণ, মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা পুনরায় মাদকের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে। আমেরিকান অ্যাডিকশন সেন্টারের গবেষণায় দেখা গেছে, চিকিৎসার পরও ৮৫% মাদকাসক্ত ব্যক্তি এক বছরের মধ্যে আবার মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে।

মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই পুনর্বাসন কেন্দ্র বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেন। তবে, ঘরে বসেই মনোবল ও লড়াইয়ের মানসিকতা থাকলে মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আর মাদক আসক্তি থেকে ‍মুক্তি পাওয়ার আরো অনেক উপায় আছে, যেগুলো নিচের আলোচনায় ধাপে ধাপে শেয়ার করা হলো।

মাদক থেকে মুক্তির পথ | নেশা ছাড়ার উপায়

মাদকাসক্তি, যেন এক অন্ধকার গর্ত, যাতে ডুবে যায় জীবনের সকল আশা, স্বপ্ন। কিন্তু হতাশ হওয়ার কিছু নেই। কারণ মাদক আসক্তি থেকে মুক্তির পথও আছে, যদি আপনার মনের জোর থাকে, পরিবারের সহায়তা থাকে এবং সঠিক পদক্ষেপ থাকে তবেই আপনি মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি পাবেন। আসুন, জেনে নেই কিছু কার্যকরী নেশা ছাড়ার উপায়, যা আপনাকে মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করবে।

০১-মাদক মুক্তিতে পরিবার ও বন্ধুদের অবদান

মাদকাসক্তি, সমাজের কালো দাগ, যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ধাবিত করে। এই অন্ধকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে, পরিবার ও বন্ধুদের ভূমিকা অপরিসীম। তাদের ভালোবাসা, সহানুভূতি ও মানসিক সমর্থন একজন আসক্ত ব্যক্তিকে নতুন জীবনের পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।

পরিবারের ভূমিকা

যখন একজন ব্যক্তি মাদকের ভয়াবহ জালে আটকা পড়ে, তখন তার নিজের পরিবার হয় তার জন্য শেষ আশ্রয়স্থল। তাদের অক্লান্ত ভালোবাসা ও সহানুভূতি আসক্ত ব্যক্তিকে নতুন করে ভাবতে এবং সাহস পেতে সাহায্য করে। পরিবারের সদস্যরা তাদের প্রিয়জনকে বুঝতে চেষ্টা করে, তাদের অনুভূতি গুলো কে গুরুত্ব দেয় এবং তাদের পুনর্বাসনের জন্য পূর্ণ সমর্থন প্রদান করে।

বন্ধুদের ভূমিকা

সত্যিকারের বন্ধু কেবল সুখের সময়ই পাশে থাকে না, বরং দুঃখের সময়ও তাদের বন্ধুর পাশে থাকে। তাই মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বন্ধুদের ভূমিকাও অপরিসীম। তারা আসক্ত ব্যক্তিকে সঠিক পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করে, তাদের ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে বিরত রাখে এবং তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। বন্ধুদের সাথে ইতিবাচক সময় কাটানো আসক্ত ব্যক্তিকে নতুন করে ভাবতে এবং সুস্থ জীবনের প্রতি আগ্রহী হতে সাহায্য করে।

০২- মাদকাসক্ত ব্যক্তির প্রয়োজনীয় চিকিৎসা

মাদকাসক্তির মূল কারণ অনেক সময় লুকিয়ে থাকে মনের অতল গহীনে। অস্থির পারিবারিক পরিবেশ, অস্বাভাবিক চাপ, আত্মসম্মানের অভাব, ভুল সঙ্গ – এসব কারণে অনেকেই মাদকের আশ্রয় নেয়। আর একজন অভিজ্ঞ মনোবিজ্ঞানী এইসব কারণ গুলো উন্মোচন করে তাদের সমাধানে সহায়তা করতে পারবেন।

মনে রাখবেন, অভিজ্ঞ মনোবিজ্ঞানী ও মাদক বিশেষজ্ঞ কেবল চিকিৎসাই করেন না, বরং আপনাকে মানসিক ভাবেও ‍সুস্থ করে তুলবেন। মাদকাসক্তি থেকে মুক্তির পথে অনেক বাধা আসতে পারে। একজন অভিজ্ঞ পেশাদার মনোবিজ্ঞানী ও মাদক বিশেষজ্ঞ আপনাকে এই বাধা গুলো অতিক্রম করতে সাহায্য করবেন এবং আপনার আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করবেন।

কিভাবে মনোবিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত করবে?

>> মাদকের প্রতি আসক্তির পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে নানা কারণ – অসুখী পরিবার, মানসিক চাপ, আত্মবিশ্বাসের অভাব, অতীতের আঘাত ইত্যাদি। একজন মনোবিজ্ঞানী আপনার সাথে নিরাপদ ও গোপনীয় পরিবেশে আলোচনার মাধ্যমে এই কারণ গুলো উন্মোচন করতে সাহায্য করবেন।

>>মাদকের উপর নির্ভরতা কমানোর জন্য প্রয়োজন মানসিক চাপ মোকাবেলার সুস্থ উপায় শেখা। একজন মনোবিজ্ঞানী আপনাকে ধ্যান, যোগব্যায়াম, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, আর্ট থেরাপি ইত্যাদির মাধ্যমে স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টের কৌশল শেখাবেন।

>>এছাড়াও মাদকাসক্তির কারণে প্রায়শই আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মান কমে যায়। একজন মনোবিজ্ঞানী আপনার ইতিবাচক দিক গুলো উন্মোচন করে, আপনার আত্ম-মূল্যবোধ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবেন।

>>মাদকাসক্তি থেকে মুক্তির জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্রে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন অভিজ্ঞ মনোবিজ্ঞানী আপনার ব্যক্তিগত চাহিদা ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে আপনার জন্য সঠিক পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্বাচনে সহায়তা করবেন।

>>মাদকাসক্তির কারণে পরিবারের সাথে সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে। একজন মনোবিজ্ঞানী পরিবারের সাথে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝি দূর করে সম্পর্ক উন্নত করতে সহায়তা করবেন।

নেশা ছাড়ার উপায় | No Drug poster

মাদক মুক্তিতে নিয়মিত শারীরিক চর্চার ভূমিকা

মাদকাসক্তির মূল কারণ গুলোর মধ্যে একটি হলো মানসিক চাপ। নেশার মাধ্যমে মানুষ চাপ থেকে মুক্তি পেতে চায়। কিন্তু নিয়মিত ব্যায়াম, যোগব্যায়াম ও ধ্যানের মাধ্যমে মানসিক চাপ সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে শরীরে এন্ডোরফিন নামক হরমোন নিঃসরণ হয় যা মনকে প্রফুল্ল করে তোলে। এতে মানুষ হতাশা ও বিষণ্ণতা থেকে মুক্তি পায় এবং মাদকের প্রতি আকর্ষণ কমে যায়।

নিয়মিত শারীরিক চর্চা শরীর ও মনকে সুস্থ রাখে। শরীরের সুন্দর গঠন ও ভালো স্বাস্থ্য মানুষের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে। আত্মবিশ্বাসী মানুষ সহজেই অন্যের কাছে নতিস্বীকার করে না এবং মাদকের প্রতি আকৃষ্ট হয় না। 

এছাড়াও নিয়মিত শারীরিক চর্চা মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি করে এবং মনোযোগ বৃদ্ধি করে। মনোযোগী মানুষ সহজেই লক্ষ্য নির্ধারণ করে এবং তা অর্জনে মনোনিবেশ করে। ফলে মাদকের প্রতি মনোযোগ কমে এবং নেশা থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ হয়।

নিয়মিত শারীরিক চর্চার ধরণ:

  • ব্যায়াম: হাঁটা, দৌড়ানো, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, জিমে ব্যায়াম করা ইত্যাদি।
  • যোগব্যায়াম: বিভিন্ন আসন, প্রাণায়াম ও ধ্যান।
  • খেলাধুলা: ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, টেনিস ইত্যাদি।

অভ্যাস পরিবর্তন মাদকাসক্তির মুক্তির পথ

এটি হলো, নেশা ছাড়ার উপায় গুলোর মধ্যে অন্যতম। নতুন অভ্যাস মাদকের প্রতি মনোযোগ কমাতে সাহায্য করে। যখন আমরা কোন নতুন বিষয়ে মনোনিবেশ করি, তখন মস্তিষ্কের সেই অংশ গুলো সক্রিয় হয় যেগুলো আনন্দ ও সৃজনশীলতার সাথে সম্পর্কিত। ফলে আমাদের মাদকের প্রতি আকর্ষণ কমে যায়। আর মাদকাসক্তরা প্রায়শই অলস সময় কাটায়, যা তাদের মাদকের প্রতি আকৃষ্ট করে।তবে নুতন নতুন শখ তাদের সময়কে কাজে লাগিয়ে ব্যস্ত রাখতে সাহায্য করে। ফলে অলসতা দূর হয় এবং মাদকের প্রতি আগ্রহ কমে।

নতুন শখের মাধ্যমে আমরা নতুন নতুন দক্ষতা অর্জন করি। এই দক্ষতা আমাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে এবং জীবনে নতুন অর্থ যোগ করে। ফলে আমাদের মাদকের প্রতি নির্ভরতা কমে যায়। অনেক নতুন শখ আমাদের নতুন মানুষের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। নতুন বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো আমাদের মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং মাদকের প্রতি আকর্ষণ কমায়।

কিছু নতুন অভ্যাসের আইডিয়া:

  • সঙ্গীত: গান শোনা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, গান গাওয়া – সঙ্গীত মনকে প্রশান্ত করে এবং মাদকের প্রতি আকর্ষণ কমায়।
  • শিল্পকলা: আঁকাআঁকি, ভাস্কর্য, চিত্রকল্পনা – শিল্পকলা আমাদের সৃজনশীলতাকে জাগ্রত করে এবং মাদকের প্রতি মনোযোগ কমাতে সাহায্য করে।
  • খেলাধুলা: ক্রিকেট, ফুটবল, সাঁতার – খেলাধুলা আমাদের শরীর ও মনকে সুস্থ রাখে এবং মাদকের প্রতি আকর্ষণ কমায়।
  • লেখালেখি: কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ – লেখালেখি আমাদের ভাব প্রকাশ করতে সাহায্য করে এবং মাদকের প্রতি মনোযোগ কমাতে সাহায্য করে।
  • বাগান: বাগান করলে মন প্রফুল্ল থাকে এবং মাদকের প্রতি আকর্ষণ কমে।

মাদকাসক্তি থেকে মুক্তিপ্রাপ্তদের সাথে যোগাযোগ

মাদকাসক্তি – শুধু একটি ব্যক্তির নয়, বরং পরিবার, বন্ধুবান্ধব, সমাজ – সকলের জন্যই যন্ত্রণার কারণ। এই অন্ধকার যাত্রায় একা লড়াই করা অসম্ভব প্রায়। এই যাত্রায় আলোর দিশা দেখায় সমর্থন গোষ্ঠী। অন্যান্য মাদকাসক্তদের সাথে যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করা একজন আসক্ত ব্যক্তিকে অনুপ্রাণিত করে এবং তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে।

মাদকাসক্তি সবার জন্য লজ্জাজনক হতে পারে, যার ফলে অনেকেই নিজেদের আলাদা করে রাখে। তবে সমর্থন গোষ্ঠীতে একই সমস্যায় ভুগছেন এমন মানুষদের সাথে দেখা করে একাকীত্বের বোধ কমে যায়। একে অপরের সাথে কথা বলে, অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তারা বুঝতে পারে যে তারা একা নয়, বরং তাদের সাথে এমন অনেক মানুষ আছে যারা একই যন্ত্রণা ভোগ করছে।

আর প্রতিটি আসক্তিরর অভিজ্ঞতা ভিন্ন হয়। সমর্থন গোষ্ঠীতে থাকা সদস্যরা তাদের যাত্রার গল্প শেয়ার করে, যা অন্যদের অনুপ্রাণিত করে এবং তাদের নিজস্ব লড়াইয়ে আশা জাগায়। আর তখন তারা সফল পুনরুদ্ধারের গল্প শুনে অনেকেই তাদের জীবনে পরিবর্তন আনতে উৎসাহিত হয়।

এমন মানুষ কোথায় খুঁজে পাবেন?

  • অনেক মানসিক স্বাস্থ্য ক্লিনিক মাদকাসক্তদের জন্য নিয়মিত সমর্থন গোষ্ঠীর আয়োজন করে থাকে।
  • বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন ও সহায়তার জন্য কাজ করে এবং তাদের সমর্থন গোষ্ঠীর আয়োজন করে।
  • আজকের দিনে অনলাইনেও মাদকাসক্তদের জন্য অনেক সমর্থন গোষ্ঠী পাওয়া যায়।

এখানে সমর্থন গোষ্ঠী বলতে সেইসব মানুষদের বোঝানো হয়েছে, যারা অতীতে মাদকে আসক্ত ছিলো কিন্তু বর্তমানে তারা মাদক থেকে পুরোপুরিভাবে মুক্ত। আর এমন মানুষের সাথে যোগাযোগ থাকলে মাদকে আসক্ত ব্যক্তিরা মাদক থেকে দুরে থাকতে উৎসাহি হয়। 

মাদক মুক্তিতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন

পর্যাপ্ত ঘুম শরীর ও মনের জন্য অপরিহার্য। ঘুমের অভাবে শরীরে তৈরি হয় টেনশন, বিরক্তি, অস্থিরতা। এই নেতিবাচক মনোভাব মাদকের প্রতি আকর্ষণ বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই নিয়মিত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমের মাধ্যমে মন ও শরীরকে প্রফুল্ল রাখবেন,যা আপনার মাদক থেকে দূরে থাকার কাজটি সহজ করে তুলবে।

এছাড়াও সুষম খাদ্য শরীরকে সুস্থ রাখে, মনকে করে প্রফুল্ল। ফল, শাকসবজি, বাদাম, মাছ, মাংস, দুগ্ধজাত খাবার – সবকিছুর সমন্বয়ে গড়ে তুলুন আপনার খাদ্য তালিকা। ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই খাবার গুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, সেই সাথে মাদকের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেয়।

নিয়মিত ব্যায়াম, যোগব্যায়াম, ধ্যান মনকে করে শান্ত রাখে, আর  দূর করে নেতিবাচক চিন্তাভাবনা। বন্ধুবান্ধব, পরিবারের সাথে সময় কাটান, নতুন শখ শিখুন, ভ্রমণ করুন – এইসব ইতিবাচক কর্মকাণ্ড মাদকের প্রতি আকর্ষণ কমিয়ে দেয়। মনে রাখবেন, একটি সুস্থ জীবনযাপনই মাদকমুক্ত জীবনের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।

আপনার জন্য আমাদের কিছুকথা

মনে রাখবেন, মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সেজন্য প্রয়োজন আপনার দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম ও ধৈর্য। উপরে উল্লেখিত পন্থাগুলো অনুসরণ করলে আপনি অবশ্যই মাদকের কবল থেকে মুক্তি পেয়ে নতুন জীবন শুরু করতে পারবেন। ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।