মানসিক রোগ থেকে মুক্তির উপায়: কার্যকর পদ্ধতি ও পরামর্শ

খুব ভয়াবহ একটি রোগ মানসিক রোগ, জেনে নিন প্রতিকার

মানসিক রোগ – শব্দটি যেন এক ভয়ঙ্কর অভিশাপের মতো আমাদের জীবনে নেমে আসে। হতাশা, উদ্বেগ, ভয়, রাগ – এই নেতিবাচক আবেগের অন্ধকারে যেন ডুবে যায় আমাদের সকল আনন্দ, সকল স্বপ্ন। কিন্তু হতাশ হওয়ার কিছু নেই। মনে রাখবেন, এই অন্ধকার চিরস্থায়ী নয়। আছে মুক্তির পথ, আছে আলোর দিক।

 

এই প্রবন্ধে আমরা আপনাকে দেখাবো মানসিক রোগের কালো মেঘ কেটে উঠে আলোর দিকে এগিয়ে যাওয়ার অভূতপূর্ব কিছু উপায়। শুধুমাত্র ঔষধের উপর নির্ভর না করে, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং সামাজিক সমর্থনের মাধ্যমে কীভাবে আপনি পুনরায় পেতে পারেন হারিয়ে যাওয়া সুখ ও প্রশান্তি, সে সম্পর্কেই আমরা আলোচনা করবো। তো চলুন এবার মানসিক রোগ থেকে মুক্তির উপায় গুলো জেনে নেওয়া যাক। 

মানসিক রোগ কী?

মানুষ শুধু শারীরিকভাবেই নয়, মানসিকভাবেও অসুস্থ হতে পারে। এই অদৃশ্য অসুস্থতা, যাকে আমরা মানসিক রোগ বলি, যা আমাদের জীবনে নেমে আসে অন্ধকারের মতো। যেমন শারীরিক অসুস্থতা আমাদের শরীরকে ভেঙে ফেলে, তেমনি মানসিক রোগ আমাদের মনকে বিষিয়ে তোলে।

 

মানসিক রোগের কারণ জটিল ও বহুমুখী। মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্যহীনতা, জিনগত বৈশিষ্ট্য, আঘাত মূলক অভিজ্ঞতা, পরিবেশগত প্রভাব, এমনকি জীবনধারার কারণও এর জন্য দায়ী হতে পারে। আর মানসিক রোগের কিন্তু কিছু লক্ষণ আমাদের সতর্ক করে দেয়। দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ, অস্বাভাবিক মেজাজ, ঘুমের সমস্যা, মনোযোগের অভাব, বাস্তবতার সাথে সংযোগ হারানো – এসব কিছুই মানসিক রোগের ইঙ্গিত।

কেন আমরা মানসিক রোগে ভুগি?

আমাদের চারপাশে অসংখ্য মানুষ বাস করে, যারা লুকিয়ে রাখে এক অন্ধকারের মুখোশ। তাদের মুখে হয়তো হাসি থাকে, কিন্তু চোখে থাকে অজানা এক যন্ত্রণা। তাদের মন হয়তো অস্থির, চিন্তাভাবনা হয়তো বিক্ষিপ্ত, আর তাদের জীবন হয়ে দাঁড়ায় এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধক্ষেত্র। হ্যাঁ, তারা হলো মানসিক রোগে আক্রান্ত মানুষ।

 

দুঃখজনক হলেও সত্যি, প্রায় তিন লক্ষ মানুষ আজ বাংলাদেশে মানসিক রোগের বেড়াজালে আটকা পড়ে আছে। এই সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আমাদের সমাজের জন্য একটি বিরাট হুমকিস্বরূপ।

 

মানসিক রোগের প্রকৃত কারণ এখনও অজানা। তবে ধারণা করা হয় জিনগত, পরিবেশগত, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, অস্বাভাবিক লালন-পালন, দীর্ঘমেয়াদী চাপ, নেশা, মস্তিষ্কের গঠনগত সমস্যা, নিউরো ট্রান্সমিটারের ভারসাম্যহীনতা, কিডনি, যকৃত, দীর্ঘমেয়াদী ঘুমের অভাব, এমনকি মৃগীরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, মাথায় আঘাত, ব্রেইন টিউমার, হৃদপিণ্ডের ফেইলিয়ারও মানসিক রোগের কারণ হতে পারে।

মানসিক রোগ কত প্রকার ও কি কি?

মানসিক রোগ বিভিন্ন রূপে আত্মপ্রকাশ করে। কেউ হয়তো অতিরিক্ত চিন্তায় ভুগতে থাকে, আবার কেউ হতাশায় ডুবে যায়। কারো মনে হয় যেন সবাই তাকে ষড়যন্ত্র করছে, আবার কেউ বাস্তব জগতের সাথে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলে। এই বৈচিত্র্যপূর্ণ উপসর্গের ভিত্তিতে মানসিক রোগকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। আর এই দুই ধরনের মানসিক রোগ হলো, নিউরোটিক এবং সাইকোসিস।

নিউরোসিস

দৈনন্দিন জীবনের চাপ, টানাপোড়েন, অস্বস্তিকর পরিবেশ – এসব কিছুর প্রভাবে নিউরোসিস দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, অস্বাভাবিক রাগ, ইন্টারনেট বা মাদকাসক্তি, প্যানিক অ্যাটাক, যৌন সমস্যা – এসবই নিউরোসিসের লক্ষণ।

সাইকোসিস

মনের ভারসাম্য যখন চরম পর্যায়ে নষ্ট হয়ে যায়, তখন দেখা দেয় সাইকোসিস। এই সময়ে রোগীরা বাস্তব জগতের সাথে তাদের যোগাযোগ হারিয়ে ফেলে। ভ্রম, বিভ্রম, অদ্ভুত চিন্তাভাবনা, বাস্তবতাহীন কথা বলা – এসবই সাইকোসিসের লক্ষণ। সিজোফ্রেনিয়া, বাইপোলার মুড ডিসঅর্ডারের মতো জটিল মানসিক রোগের কারণেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা দেয় সাইকোসিস।

মানসিক রোগের কারনে আমাদের কি কি শারীরিক ক্ষতি হয়?

মানুষের শরীর শুধু প্রাণ নয়, বরং মনেরও সত্তা। মানসিক সুস্থতা আমাদের সামগ্রিক সুস্থতার এক অপরিহার্য অংশ। যখন মন ভালো থাকে, তখন শরীরও সতেজ থাকে। কিন্তু যখন মানসিক অসুস্থতা আঘাত হানে, তখন শুধুমাত্র চিন্তাভাবনা ও আবেগ নয়, বরং আমাদের শারীরিক স্বাস্থ্যও মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

০১) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে

মানসিক চাপের ফলে শরীরে কর্টিসল নামক হরমোনের নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়। এই কর্টিসল রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার বিভিন্ন কোষের কার্যকারিতা নষ্ট করে ফেলে। যার ফলে শরীর সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে দুর্বল হয়ে পড়ে। দীর্ঘস্থায়ী চাপের কারণে ঘুমের অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়ামের অভাব – এইসব সমস্যাও দেখা দেয়। যা আরও দ্রুত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে ফেলে।

০২) হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়

মানসিক চাপের সাথে দীর্ঘমেয়াদী উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা সরাসরি ভাবে যুক্ত। এই মানসিক অবস্থা গুলো রক্তচাপ এবং হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি করে, যা হৃৎপিণ্ডের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে রক্তনালীতে প্রদাহ বৃদ্ধি পায় এবং ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের (LDL) মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা ধমনীতে জমা হয়ে প্লেক তৈরি করে। আর এই প্লেক গুলো রক্তনালী সংকুচিত করে এবং রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে, যার ফলে করোনারি হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

০৩) গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল সমস্যা বাড়ায়

আমাদের মস্তিষ্ক এবং পেটের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ‘এন্টেরিক নার্ভাস সিস্টেম’ নামক একটি জটিল স্নায়ুতন্ত্র এই দুটিকে সংযুক্ত করে। যখন আমরা চাপে থাকি, তখন আমাদের শরীর ‘কর্টিসল’ নামক হরমোন নিঃসরণ করে।  

 

এই হরমোন পেটের পেশী গুলোকে সংকুচিত করে, হজমের রসের ক্ষরণ কমিয়ে দেয় এবং পেটের স্বাভাবিক নড়াচড়া বাধাগ্রস্ত করে। এর ফলে পেটের ব্যথা, বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য, এমনকি গ্যাস্ট্রিক আলসারের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

০৪) মাথাব্যাথা বাড়িয়ে তোলে

মানসিক চাপের সবচেয়ে সাধারণ শারীরিক প্রতিক্রিয়া হল মাথাব্যথা। যা মাথার দু’পাশে, কপালে বা ঘাড়ে ব্যথা সৃষ্টি করে। আবার আপনার চোখে জ্বালা ও টান অনুভূত হতে পারে। মাথাব্যথা সাধারণত হালকা থেকে মাঝারি তীব্রতার হয় এবং এটি দীর্ঘক্ষণ ধরে স্থায়ী হতে পারে।

 

গবেষণায় দেখা গেছে যে, মানসিক চাপ মাইগ্রেনের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়িয়ে তোলে। মাইগ্রেন হল এক ধরণের তীব্র মাথাব্যথা যা সাধারণত মাথার একদিকে স্পন্দনশীল ব্যথা সৃষ্টি করে। বমি বমি ভাব, বমি, আলো ও শব্দের প্রতি স্পর্শকাতরতা মাইগ্রেনের সাথে যুক্ত সাধারণ একটি লক্ষণ। মানসিক চাপের কারণে মস্তিষ্কের রক্তনালী গুলো সংকুচিত ও প্রসারিত হতে পারে, যা মাইগ্রেনের আক্রমণকে ট্রিগার করে থাকে।

০৫) ঘুমের সমস্যা সৃষ্টি

রাতে ঘুম না আসা, ঘুমিয়ে থাকতে অসুবিধা, বারবার জেগে ওঠা – অনিদ্রার লক্ষণ গুলো অনেকেরই পরিচিত। মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্ণতা, এমনকি কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও অনিদ্রার কারণ হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী অনিদ্রা মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি, এমনকি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।

 

এছাড়াও ঘুমের মধ্যে হাঁটা, কথা বলা, দাঁত বেঁকে নেওয়া, এমনকি স্বপ্ন দেখা – এগুলো ঘুমের ব্যাঘাতের লক্ষণ। আর এই দীর্ঘমেয়াদী ঘুমের ব্যাঘাত শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে দেয়। যার ফলে আমরা ঘুমের সমস্যার কারণে মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ি।

০৬) চর্মরোগের সমস্যা 

মানসিক চাপ একজিমা, সোরিয়াসিসের মতো ত্বকের রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। হরমোন, কর্টিসল, ত্বকের প্রদাহ বাড়িয়ে তোলে, যার ফলে একজিমার ফুটো, লালভাব এবং চুলকানি তীব্র হয়ে যায়। সোরিয়াসিস রোগীদের ক্ষেত্রে, ত্বকের কোষের প্রজননকে ত্বরান্বিত করে, ফলে লাল, খাঁজযুক্ত প্লেক গুলো আরও দ্রুত তৈরি হয়।

 

এর পাশাপাশি মানসিক চাপ ত্বকে বয়সের লক্ষণ গুলোকেও ত্বরান্বিত করে থাকে। কর্টিসল কোলাজেন এবং ইলাস্টিনের ভাঙনকে বাড়িয়ে তোলে, যার ফলে ত্বক তার স্থিতিস্থাপকতা এবং দৃঢ়তা হারিয়ে ফেলে। এর ফলে বলিরেখা, চোখের নীচের দাগ এবং ঝুলে যাওয়া ত্বকের মতো লক্ষণ গুলো দেখা দেয়।

মানসিক রোগ থেকে মুক্তি পাবো কিভাবে?

এতক্ষনের আলোচনা থেকে আমরা মানসিক রোগ কি ও মানসিক রোগের ক্ষতি গুলো সম্পর্কে জানলাম। তো এবার আমাদের মানসিক রোগ থেকে মুক্তির উপায় গুলো জানতে হবে। তবে মনে রাখবেন, আজকের শেয়ার করা মানসিক রোগ থেকে মুক্তির উপায় গুলো শুধুমাত্র প্রাথমিক ধাপের মানসিক রোগীর জন্য প্রযোজ্য। কারণ, যদি আপনার মানসিক সমস্যা মাত্রাতিরিক্ত হয়, তাহলে অবশ্যই আপনাকে অভিজ্ঞ ডক্টরের নিকট যেতে হবে। 

 

আর আপনারা যারা প্রাথমিক পর্যায়ের মানসিক সমস্যায় আছেন তারা অবশ্যই নিচে শেয়ার করা মানসিক রোগ থেকে মুক্তির উপায় গুলো ফলো করার চেষ্টা করবেন। তাহলে আপনি আপনার এই সমস্যা থেকে খুব সহজেই নিরাময় পাবেন। 

০১) সৃজনশীল ও কর্মঠ হয়ে উঠুন

মানুষের মধ্যে সৃজনশীলতার এক অসাধারণ শক্তি লুকিয়ে থাকে। যখন আমরা কিছু সৃষ্টি করি, তখন আমরা আমাদের আবেগ ও অনুভূতি গুলোকে প্রকাশ করতে পারি। এটি আমাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে এবং আমাদের মনকে নতুন চিন্তা ভাবনায় উৎসাহিত করে।

 

আপনি যদি লেখালেখি, গান, ছবি আঁকা, নৃত্য, বাগান করার মতো কাজ গুলো উপভোগ করেন, তাহলে এগুলো নিয়মিত করার চেষ্টা করুন। নতুন কিছু শিখতে চেষ্টা করুন, হয়তো নতুন বাদ্যযন্ত্র বাজানো, একটি নতুন ভাষা শেখা, অথবা রান্না শেখার মতো যেকোনো কাজ হতে পারে।

 

এছাড়াও খালি বসে থাকা মানসিক রোগের জন্য সবচেয়ে খারাপ একটি অভ্যাস। কাজের মাধ্যমে আমরা আমাদের মনকে ব্যস্ত রাখতে পারি এবং নতুন লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করতে পারি। আপনার আগ্রহের সাথে মানানসই এমন কোন কাজ খুঁজে বের করুন। যেটি একটি পেশাগত কাজ হতে পারে, অথবা স্বেচ্ছাসেবী কাজ, অথবা ঘরের কাজ। নিয়মিত কাজের মাধ্যমে আপনি শৃঙ্খলাবদ্ধ হবেন এবং আপনার জীবনে নতুন অর্থ খুঁজে পাবেন।

০২) মানুষের সাথে সঙ্গ দিন

একাকীত্ব মানুষের মনে নেতিবাচক চিন্তার বীজ বপন করে। আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে, হতাশায় ভুগতে থাকে। এই নেতিবাচক চিন্তাভাবনা দীর্ঘায়িত হলে জন্ম নিতে পারে বিষণ্ণতা, উদ্বেগ, এমনকি আত্মহত্যার প্রবণতাও। তবে প্রিয়জনের সঙ্গ মানসিক রোগ প্রতিরোধে অবদান রাখে। 

 

যারা নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখে, তাদের মধ্যে মানসিক রোগের ঝুঁকি কম থাকে। বন্ধু, পরিবারের সঙ্গে আড্ডা, গল্প, হাসি-ঠাট্টা মনকে করে দেয় প্রফুল্ল। সকলের সাথে ইতিবাচক আচরণ করলে মন ভালো থাকে। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে সমাজে আমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। এতে মানসিক তৃপ্তি লাভ হয়, যা মানসিক রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

০৩) পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমাবেন

অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমায় তাদের মধ্যে মানসিক রোগের ঝুঁকি অনেক কম থাকে। ঘুমের অভাবে মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্য নষ্ট হয়, যার ফলে বিষণ্ণতা, উদ্বেগ, স্মৃতিভ্রংশ, এমনকি সাইকোসিসের মতো গুরুতর মানসিক রোগ দেখা দিতে পারে।

 

ঘুমের সময় আমাদের শরীর নিজেকে মেরামত করে এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রয়োজনীয় কোষ তৈরি করে। তাই যারা পর্যাপ্ত ঘুমায় তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী থাকে এবং তারা সহজে অসুস্থ হয় না।

০৪) অতীত ভুলে বর্তমানে মনোযোগ দিন

মানুষের মন এক অদ্ভুত জিনিস। অতীতের স্মৃতির ছায়ায় ভবিষ্যতের ভয়ের সাথে আমরা বারবার লড়াই করি। এই লড়াইয়ে হেরে যায় আমাদের মানসিক শান্তি। অতীতের ভুল, হতাশার কালো মেঘ এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার ভয় – এইসব নিয়ে আমরা এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়ি যে বর্তমান মুহূর্তের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভুলে যাই।

 

কিন্তু মনে রাখবেন, বর্তমান মুহূর্তই আমাদের সত্যিকারের জীবন। অতীতের ভুল গুলো শুধু শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করে এগিয়ে যাওয়া উচিত। ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করলেও অতিরিক্ত চিন্তায় ডুবে থাকা উচিত নয়। কারণ অতিরিক্ত চিন্তা মানসিক চাপের কারণ হতে পারে।

০৫) নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাবার

মানসিক সুস্থতা অর্জনে নিয়মিত ব্যায়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কে এন্ডোরফিন নামক রাসায়নিক নিঃসরণ হয় যা আমাদের মেজাজ উন্নত করে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও, ব্যায়াম আমাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে এবং জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সাহায্য করে।

 

আমাদের মানসিক সুস্থতার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, খাদ্য আমাদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা প্রভাবিত করে। প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনিযুক্ত পানীয় এবং অস্বাস্থ্যকর চর্বি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। কারণ, এগুলো আমাদের মানসিক অবস্থা খারাপ করতে দেয় এবং মানসিক চাপের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে। তাই, আমাদের প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে ফল, শাকসবজি, শস্য এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত।

০৬) মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন

বর্তমানে আধুনিক জীবনের ছুটে বেড়ানোর সাথে সাথে আমাদের মানসিক চাপের মাত্রাও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অফিসের কাজের চাপ, পারিবারিক অশান্তি, অর্থনৈতিক সংকট, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা – এসব মিলে আমাদের জীবনে নেমে আসে এক বিষাক্ত ছায়া। 

 

আর দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ শুধু আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং এর প্রভাব আমাদের শারীরিক স্বাস্থ্য, কর্মক্ষমতা, এমনকি পারিবারিক জীবনেও বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই যতোটা পারেন আপনার মানসিক চাপের পরিমাণ কিছুটা হলেও কমানোর চেষ্টা করবেন। 

০৭) মাদক থেকে দুরে থাকুন

মানসিক চাপ, দুঃখ, হতাশা – জীবনের এই অপ্রীতিকর অতিথিরা কখনো না কখনো আমাদের সকলেরই দরজায় কড়া নাড়ে। অনেকেই তখন সান্ত্বনা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন মদ, সিগারেট অথবা মাদকের আশ্রয় নিয়ে। কিন্তু মনে রাখবেন, এই কৃত্রিম সান্ত্বনা আপনার সমস্যার সমাধান নয়, বরং মাদক সেবন আরও গভীর জটিলতার দিকে ধাবিত করবে।

 

মদ্যপান, ধূমপান এবং মাদকাসক্তি – এই তিন মহামারী শুধু শরীরের জন্যই ক্ষতিকর নয়, মনকেও করে তোলে অন্ধকার। মনে রাখবেন, আপনার জীবনের সমস্যা গুলো কখনোই এইসব জিনিস দিয়ে সমাধান করা যাবে না। বরং, নিয়মিত ব্যবহারের ফলে আপনার মানসিক অবস্থা আরও খারাপ হবে, হতাশা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং জীবন হয়ে উঠবে অসহ্য।

 

তাই আপনারা যারা মানসিক রোগ থেকে মুক্তির উপায় খুজছেন তারা যদি মাদক সেবনে আসক্ত হয়ে থাকেন। তাহলে আপনাকে যতো দ্রুত সম্ভব এই মাদক নামক অন্ধকার জগত থেকে নিজেকে মুক্ত করতে হবে। অন্যথায় আজকের শেয়ার করা মানসিক রোগ থেকে মুক্তির উপায় গুলোর কোনোটি কাজে আসবে না। 

আপনার জন্য আমাদের কিছুকথা

আপনারা যারা মানসিক রোগ থেকে মুক্তির উপায় খুজছেন তাদের জন্য আজকের এই লেখাটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারন, এই আর্টিকেলে আমি আপনার সাথে কার্যকরী কিছু মানসিক রোগ থেকে মুক্তির উপায় শেয়ার করেছি। যেগুলো অনুসরণ করার মাধ্যমে আপনি খুব দ্রুত আপনার মানসিক সমস্যা দুর করতে পারবেন। 

 

তবে যদি আপনার মানসিক রোগ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে আপনি দেরী না করে অতি দ্রুত অভিজ্ঞ ডাক্তার এর শরণাপন্ন হবেন। তারা আপনার রোগের কারণ নির্ণয় করার পর সঠিক চিকিৎসা প্রদান করতে পারবে। আর আপনি যদি এমন ধরনের স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন অজানা বিষয় গুলো সহজ ভাষায় জানতে চান তাহলে আমাদের সাথে থাকবেন। ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।